books, reading, beach

মাইন্ডফুলনেস ও একটি ছাদের গল্প

বাসার ছাদে একা চুপ করে বসে থাকার মাঝে একটা আনন্দ আছে।যেটা মুভি দেখে বা ফেসবুক স্ক্রল করে পাওয়া যায় না । সাথে এক কাপ রং চা ও মৃদু রোদ।আবহের খুব ভালো সমন্বয় ঘটায় এরা।


আমার ছাদে লেবুর গাছ আছে।যখন বসি তখন কয়েকটা লেবুর পাতা ছিঁড়ে নিয়ে বসি। মাঝে মাঝে পাতা গুলোর ঘ্রাণ নিলে নিজের ভেতর একটা ফ্রেশনেস ভাব আসে। স্মার্টফোনের মত খুচরা শয়তান সাথে না থাকায় মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হওয়ার সুযোগ কমে আসে শূন্যের ঘরে। নিজের সাথে কথা বলা যায় প্রাণখুলে। নিজের চিন্তা গুলো নিয়েও ভাবা যায়।


একা বসে বসে চেতন ও অবচেতন মনের কথোপকথন চালিয়ে নেয়া যায়। বাঁধা দেয়ার কেউ নেই। মনটা যখন অতিরিক্ত তথ্যের চাপে ক্লান্ত থাকে তখন চিন্তাগুলোকে ছাঁকার প্রয়োজন হয়। টিভি নিউজ থেকে ইউটিউবের গুজব ,মিনিটেই শত শত তথ্যের ওভারলোডে মানুষ দিশেহারা।


সে যাই হোক, এভাবে চুপ করে থাকলে অবচেতন মন সুন্দর সুন্দর কিছু জীবন দর্শন চেতন মনে নিয়ে আসে। তেমনই দুইটি চিন্তা হলোঃ
এক, মানুষের পক্ষে সবকিছু করা এবং পাওয়া সম্ভব নয়, এবং উচিৎও নয় – এই সত্য মেনে নিতে হয়।


সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করে বললে ব্যাপারটা এমন দাঁড়ায় , আপনি যখন এই সত্যিটা উপলব্ধি করবেন যে, একজন মানুষ তার জীবনে পৃথিবীর বেশিরভাগ খাবার, অভিজ্ঞতা, পোশাক, জ্ঞান – কিছুরই স্বাদ পায়না – এবং সেটা হাজার বছর বাঁচলেও সম্ভব নয় – তখন দেখবেন ব্যাপারটা অনেক সহজ লাগছে।এটা মেনে নিলে আপনার বিভিন্ন কারণে হওয়া টেনশন অনেকটাই কমে যাবে।


দুই, আপনার চাওয়া ও প্রয়োজনের ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা রাখুন, এবং বাকি সবকিছুকে ‘না’ বলুন। মানে “না” বলা ।
সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করে বললে ব্যাপারটা এমন দাঁড়ায় , আমরা জীবন থেকে কি চাই, আজকের দিনে কি চাই, কি কি কাজ করতে হবে, কোন কোন জিনিসটা আসলেই কেনা প্রয়োজন, কোন জিনিসটা জানা প্রয়োজন – সেই ব্যাপারে স্পষ্ট একটি রোডম্যাপ থাকতে হবে – এবং এর বাইরে যা-ই সামনে আসুক, যত লোভনীয় অফারই আসুক – সেগুলোকে না বলতে হবে।”না” বলতে পারা যে কত গুরুত্বপূর্ণ তা আমি ” ব্রেইন বুস্টার” বইতে বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এটা এতটাই বিস্তৃত একটা পেক্ষাপট যে শুধু মাত্র “না” বলা নিয়ে মহাকাব্য রচনা করা সম্ভব।


মজার ব্যাপার হল, একার্ট তোলের দ্যা পাওয়ার অফ নাউ টা পড়েছিলাম কয়েক বছর আছে নেক্সট পড়ার তালিকায় রেখেছি একই রকম শুনতে সিমন রাইট এর “The Power of Saying No” । “না” বলা নিয়ে নিজের সাথে এই আলাপচারিটা না হলে হয়ত সিমন রাইট এর বইটি আমি পড়ার তালিকায় রাখতাম না ।


শেষে বলতে চাই, টিভিতে সংবাদ পাঠক কি বলল, ফেসবুকে মানুষ কি বলল , ইউটিউবে ইউটিউবার রা কি বলল এইসব শুনে যতটুকু সময় আমরা কাটাই ঠিক সম পরিমাণ সময় যদি আমরা নিজেদের মনের কথা বা সাবকনশাস মাইন্ডের কথা শুনতে কাজে লাগাতাম তাহলে ভেতর থেকে প্রশান্তি কয়েক গুণ বেড়ে যেতো আর এটাই “মাইন্ডফুলনেস” এর শক্তি।